গ্লোবাল ট্যুর: বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্থান থেকে বিভক্ত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ হিসেবে ৯ মাস যুদ্ধ করে স্বীকৃতি লাভ করে। এর তিন দিকে ভারত এবং এক দিকে বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত। ঢাকা হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী। ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ এই ৮টি বিভাগ নিয়ে বাংলাদেশ গঠিত।
জনসংখ্যায় বিশ্বে অষ্টম বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশ, যদিও আয়তনে বিশ্বে ৯২ তম। ৬টি ক্ষুদ্র দ্বীপ ও নগররাষ্ট্রের পরেই বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই ক্ষুদ্রায়তনের দেশটির প্রাক্কলিত (২০২১) জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ ১ হাজার। প্রতি বর্গমাইলে জনবসতি প্রায় ৩০০০ জন।
বাংলাদেশের সরকারি ভাষা বাংলা। এই ভাষাতে দেশেরে ৯৯ শতাংশ লোক কথা বলেন। এছাড়াও হিন্দি ও ইংরেজি ভাষা প্রচলিত। এখানে অন্যান্য ভাষার মধ্যে আছে মনিপুরী ভাষা, খাসিয়া ভাষা, চাকমা ভাষা ও মারমা ভাষা।সাক্ষরতার হার (২০২০) ৭৪.৭০ শতাংশ। মূদ্রার নাম টাকা। ১ ইউএস ডলার সমান ৮৪.৯১ বাংলাদেশী টাকা।
বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহের তালিকা: সুন্দরবন, পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার এবং বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ।এছাড়া মহাস্থানগড়, লালমাই-ময়নামতি, লালবাগ কেল্লা, হলুদ বিহার এবং জগদ্দল বিহার – এই পাঁচটি স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান গুলো হচ্ছে: ১.সোনারগাঁও ২.কক্সবাজার ৩.সেন্টমার্টিন ৪.গাজীপুর সাফারি পার্ক ৫.আহসান মঞ্জিল ৬.বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ৭.রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ ৮.জাতীয় সংসদ ভবন ৯.জাতীয় স্মৃতিসৌধ ১০.শালবন বৌদ্ধ বিহার ১১.ষাট গম্বুজ মসজিদ ১২.জাফলং ১৩.সাজেক ভ্যালি ১৪. মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ১৫.রাতারগুল ১৬. বিছনাকান্দি ১৭. নাফাকুম, ১৮.টাঙ্গুগুয়ার হাওর ১৯. সাগরকন্যা কুয়াকাটা ২০.ঢাকেশ্বরী মন্দির ২১.টেকনাফ  ২২.বাংলার তাজমহল ২৩.পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ২৪.নিঝুম দ্বীপ ২৫.শালবন বৌদ্ধ বিহার ২৬.মহাস্থানগড় ২৭.লালবাগ কেল্লা ২৮.হযরত শাহজালাল (র:),হযরত শাহপরান (র:) ও হযরত বুরহান উদ্দিন (র:) মাজার ২৯.পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার ৩০. সুন্দরবন। এছাড়াও সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বংলাদেশের প্রতিটি জেলায় অনেক দর্পাশনীয় স্থান রয়েছে।

সুন্দরবন : এটি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলার বিস্তৃর্ণ অংশ নিয়ে অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বলা হয় সুন্দরবনকে। বিশে^র বৃহত্তম ব-দ্বীপ, দীর্ঘতম লবনাক্ত জলাভ’মি এবং জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম। এখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিদ্যমান আছে। বিপন্নপ্রায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং ইন্ডিয়ান পাইথনের আবাসভূমি হিসেবে খ্যাত সুন্দরবন। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের এই বনাঞ্চল এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে এক বিষ্ময় হিসেবে রয়ে গিয়েছে জীববিজ্ঞানীদের কাছে।
সুন্দরবনের ভিতরে যেতে হলে নৌপথই একমাত্র উপায়। শীতকাল সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। সুন্দরবন ভ্রমণের সময় টেলিটক মোবাইল এর সিম কার্ড সাথে নিবেন। কারণ ওখানে টেলিটক ছাড়া অন্য সিম কার্ড গুলো কাজ করেনা।
প্রতিবছর বাংলাদেশের পর্যটন খাতের একটি বড় অংশের যোগান দিয়ে থাকে এই সুন্দরবন। এমনকি স্থানীয় জনসাধারণের জীবিকার উৎস এই বন।
সুন্দরবনে যা দেখবেন: হীরন পয়েন্ট, দুবলার চর, জামতলা সৈকত, মান্দার বাড়িয়া সৈকত, কটকা বিচ।
প্রবেশ ফি : করমজলে দেশি পর্যটকদের জন্য ২০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য ৩০০ টাকা। অভয়রণ্য এলাকায় দেশি পর্যটকদের জন্য ১৫০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১৫০০ টাকা
সময়সূচী :গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাজের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা ২.০০ থেকে পাহাড়পুর জাদুঘর খোলা থাকে।
কিভাবে যাবেন: দেশ থেকে সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশপথে এবং বিদেশের থেকে আকাশপথে ঢাকায় যাওয়া যাবে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে বিমান, ট্রেন, লঞ্চ ও বাসে করে খুলনা এবং সেখান থেকে বাসযোগে কয়রা হয়ে সুন্দরবনে যাওয়া যাবে। অথবা খুলনা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চযোগে সুন্দরবন যাওয়া যাবে।

সুন্দরবনের বিখ্যাত স্পট:
হিরোন পয়েন্টঃ বাঘ, হরিণ, বানর, কুমির, পাখি এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।
কাতকাঃ হরিণ, বাঘ, কুমির, পাখি, বানর সকালে ও সন্ধ্যায় পাখির ডাক ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত। দুলবার চরঃ এটি আকর্ষনীয় দ্বীপ। সুন্দরবনের জেলেদের বাস এখানে। এখানের ঘাসে প্রায়ই হরিণদের বিচরণ করতে দেখা যায়।
অনুমতিঃ সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য অবশ্যই আবেদন করে অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে। অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে ডিভিশনাল ফরেষ্ট অফিস, সার্কিট হাউস রোড, খুলনা। ফোনঃ২০৬৬৫/২১১৭৩ এই ঠিকানা থেকে।
ভ্রমণের সময় : নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বেড়ানোর উপযোক্ত সময়।
কিভাবে যাবেনঃ খুলনা অথবা মংলা বন্দর থেকে নৌ পথে যেতে হবে সুন্দরবন। মংলা থেকে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের লঞ্চে অথবা বেসরকারী লঞ্চ, স্পীডবোটে চড়ে সুন্দরবন যেতে পারেন। মংলা থেকে সুন্দরবন পৌছাতে সময় ¯্রােতের উপর নির্ভর করে। তবে ৬ থেকে ১০ ঘন্টার মধ্যে পৗছানো যায়। ঢাকা থেকে খুলনা সড়ক পথে অথবা নৌ পতে পৌছাতে পারেন। সড়ক পথে দিবা রাত্রি কোচ সার্ভিস রয়েছে। নৌ পথে রকেট স্টীমারে পৌছাতে পারেন খুলনা। এছাড়াও বিমানে ঢাকা থেকে যশোহর পৌছে সড়ক পথে দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে খুলনা যেতে পারেন। সড়ক পথ থেকে নৌ পথে খুলনা যাওয়া আনন্দদায়ক। কারণ এতে গ্রাম বাংলার অনেক সুন্দর দৃশ্য আপনার চোখে পড়বে। ষ্টীমারে খুলনা পৌছাতে সময় লাগে কম পক্ষে ২৪ ঘন্টা এবং মংলা পৌছাতে সময় লাগে ২২ ঘন্টা।
কোথায় থাকবেন : হিরোন পয়েন্ট এবং কাতকায় পর্যটন কর্পোরেশনের রেষ্ট হাউস রয়েছে। অবশ্যই অগ্রিম বুকিং করতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য স্থানে অবস্থিত পর্যটন অফিসে যোগাযোগ করে রেষ্ট হাউসে বুকিং এর ব্যবস্থা করতে পারেন।
খানজাহান আলী: হযরত খানজাহান আলী (রঃ) ১৩৬৯ খ্রিস্টব্দে দিল্লীতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আকবর খাঁ এবং মাতার নাম আম্বিয়া বিবি। খানজাহান আলী ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দে তুঘলক সেনা বাহিনীতেকর্ম জীবন শুরু করেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধান সেনাপতি পদে উন্নীত হন। ১৩৯৪ এ মাত্র ২৬/২৭ বছর বয়সে তিনি জৈনপুর প্রদেশের গভর্ণর পদে যোগ দেন। পরবর্তীতে সুলতান খানজাহানের নেতৃত্বে ৬০,০০০ সুশিক্ষিত অগ্রবর্তী সেনাদল সহ আরও দুই লক্ষ সৈন্য নিয়ে বাংলা আক্রমণ করলে রাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুরিয়াতে আশ্রয় নেন। ১৪১৮ খৃষ্টাব্দে খানজাহান যশোরের বার বাজারে অবস্থান নেন এবং বাংলার দক্ষিণ পশ্চিম অংশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসার আরম্ভ করেন।এই মহান দরবেশ ও সেনাপতির চেষ্টাতেই প্রধানত যশোর-খুলনা-পটুয়াখালী এলাকায় ইসলামের প্রসার ঘটে এবং বিশাল বনাঞ্চল আবাদী হয়।খুলনার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিন পূর্বে বাগেরহাট অবস্থিত। বাগেরহাটে রয়েছে বিখ্যাত ষাট গম্বুজ মসজিদ। মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ১৪৫৯ সালে। এছাড়াও রয়েছে দিল্লীর স¤্রাট নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের সেনাপতি এবং পীর খানজাহান আলী (রঃ) মাজার।
প্রায় ছয়’শ বছর ধরে বংশ পরমপরায় বসবাস করে আসা মিঠা পানির সর্বশেষ উম্মুক্ত আবাসস্থল বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী মাজার দীঘি। দুইশ একর আয়তনের বিশাল এই দিঘিটি আধ্যাত্মিক সাধক ধর্মপ্রচারক হযরত খানজাহান আলী খনন করার পর যাতে কেউ দীঘির সুপেয় পানি নষ্ট করতে না পারে সেজন্য দীঘিতে এক জোড়া মিঠা পানির কুমির ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই থেকেই বংশ পরমপর খানজাহান আলী দরগাহ দীঘিতে এই মিঠা পানির কুমির বসবাস করে আসছে।
ষাট গম্বুজ মসজিদ : ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই পায় খানজাহান আলীর অমর কীর্তি ‘বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদ’। এটি বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। বাগেরহাট শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দুরে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাশে সুন্দরঘোনা গ্রামে ষাট গম্বুজ মসজিদটি। তুর্কি বংশোদ্ভুত খানজাহান আলী (রঃ) ইসলাম প্রচারে এসে বাগেরহাট শহরে আবাস গড়েন। খানজাহান আলী (রঃ) কর্তৃক নির্মিত অপূর্ব কারুকার্য খচিত পাঁচ শতাব্দিরও অধিক কালের পুরাতনএ মসজিদটি তাঁর দরগাহের পশ্চিমে অবস্থিত। লাল পেড়া মাঠির উপর লতাপাতার অলংকরণে মধ্য যুগীয় স্থাপত্য শিল্পে এ মসজিদ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এটি গঠন বৈচিত্র তুঘলক স্থাপত্যেও বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যদিও এটি ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত,কিন্তু ৭৭টি মূল গম্বুজ এবং মিনারে থাকা ৪টি মিলিয়ে মোট ৮১ গম্বুজের মসজিদ এটি। এর অনন্য স্থাপত্যশৈলী ইসলামী স্থাপত্যকলার এক বিষ্ময়। খানজাহান আলীর মৃত্যুর পর বাগেরহাট তার জৌলুস হারালেও ষাট গম্বুজ মসজিদ এখনও টিকে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।
প্রবেশ ফি : বাংলাদেশী দর্শক ২০টাকা জনপ্রতি। অন্যান্য দেশের দর্শক ২০০ টাকা জনপ্রতি।
সময়সূচী :গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাজের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা ২.০০ থেকে বাগেরহাট জাদুঘর খোলা থাকে।
কিভাবে যাবেন: দেশ থেকে সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশপথে এবং বিদেশের থেকে আকাশপথে ঢাকায় যাওয়া যাবে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে বাগেরহাট অথবা খুলনাগামী বাসে করে ষাট গম্বুজ মসজিদে যাওয়া যাবে।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার : এটি বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। ১৯৮৫ সালেই ইউনেস্কোর তালিকায় স্থান করে নেয় আরেকটি ধর্মীয় নিদর্শন। বলা হয়ে থাকে, এদেশের আদি স্থাপনার মাঝে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার সবচেয়ে ইতিহাস সমৃদ্ধ। সপ্তম শতাব্দিতে(৭৭০- ৮১০) সালের মাঝে এই বিহারের নির্মাণ করেন পালবংশের ২য় রাজা ধর্মপাল। অষ্টম ও নবম শতাব্দিতে পাল বংশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাজা ধর্মপাল ও তার পুত্র দেবপাল বাংলা, বিহার ও কনৌজ পর্যন্ত বিরাট স¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এসময় তাদের পৃষ্ঠপেষকতায় বাংলাদেশে এই পাহাড়পুর বিহার গড়ে ওঠে। ১৮৭৯ সালে স্যার ক্যানিংহাম এই বিহার আবিষ্কার করেন। পাহাড়পুরকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার বলা হয়। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এটি বৌদ্ধদের ধর্মচর্চা কেন্দ্র হিসেবে গণ্য হত। এমনকি চীন, তিব্বত, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে অনেক বৌদ্ধ এখানে এসে ধর্মচর্চা করেছেন। আজও এই অপূর্ব বিহারটি এশিয়ার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ বিহার বলে সগৌরবে দন্ডায়মান।
প্রবেশ ফি : নাই
সময়সূচী :
গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাজের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা ২.০০ থেকে পাহাড়পুর জাদুঘর খোলা থাকে।
কিভাবে যাবেন: দেশ থেকে সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশপথে এবং বিদেশের থেকে আকাশপথে ঢাকায় যাওয়া যাবে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে বাসে করেনওগাঁশহরে এবং সেখান থেকে বাসে করে পাহারপুর বৌদ্ধ বিহারে যাওয়া যাবে। নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দুরে এটি অবস্থিত। তবে জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এর দুরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার।

🌍 UK, Australia, New Zealand, USA, Canada, and Schengen Visit Visa Processing
🌍আপনি কি সপরিবারে বা এককভাবে ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদন করতে চাচ্ছেন? দেশ থেকে বা দেশের বাইরে থেকেও অনলাইনে আবেদন করা এখন খুবই সহজ! আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ ভিসা প্রসেসিং অফিসারের মাধ্যমে আপনার ভিসা আবেদন অত্যন্ত যত্ন সহকারে প্রক্রিয়া করি।
যোগাযোগ: Call/WhatsApp +88-01903-845418 Email:bdtour7@gmail.com