মোহাম্মদ মজনুজ্জামান: সিলেট বাংলাদেশের উত্তর-পূবাঞ্চলে অবস্থিত সিলেট বিভাগ প্রাকৃতির লীলা নিকেতন। বিভাগের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত প্রকৃতির অফুরান সম্ভার, নয়নাভিরাম দৃশ্য, পাহাড়িঝর্ণার কলগান, আকাবাঁকা নদী, বিস্তৃর্ণ হাওর, সবুজ সুউচ্চ টিলা ভূমি দেশি-বিদেশী পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। সিলেট বিভাগের প্রবেশ পথেই সারি সারি চা গাছ বহু পর্যটককে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে আপন ভূবনে স্বপ্নিল স্বর্গ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। রাবার বাগানের সুদৃশ্য দৃষ্টিনন্দিত বৃক্ষরাজি আরেক আকর্ষণীয় বস্তু। বহুকাল থেকে সিলেটের এই নয়ন ভুলানো, প্রাণ জুড়ানো দৃশ্যরাজি ও সে সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদ দেশি-বিদেশী বহু বেনিয়া, ব্যবসায়ীকে সিলেটে আগমনও স্থায়ীভাবে বসবাসে উদ্বুদ্ধ করেছে। নৈসর্গিক সুন্দরের এ মনোরম পরিবেশে শীতকালে জমে উঠে বনভোজনের হিড়িক। দেশের দুর দুরান্ত থেকে স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকগন শিক্ষা সফরে এসে থাকেন এখানে।

হযরত শাহজালাল (রঃ) এবং হযরত শাহপরান (রঃ)সহ শত শত পীর আওলিয়ার মাজার এখানে অবস্থিত। এখানে রয়েছে কীংব্রীজ, এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লিডিং ইউনিভাসিটি, সিলেট মট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট, ক্যাডেট কলেজ, শাহী ঈদগাহ, গৌড়গোবিন্দের টিলা, ওসমানী জাদুঘর, আলী আমজাদের বিশাল ঘড়ি, সুরমা, কুশিয়ারা আর মনুর কল কল গতির পাশে দাড়িয়ে রয়েছে। শহর-বন্দর, গ্রাম-জনপদ, বিস্তৃর্ণ হাওড়, চা বাগান আর বনাঞ্চল। এই সিলেটে রয়েছে পেপার মিল, সারকারখানা, হরিপুর ও কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ড। একটু দুরে গেলে দেখা যাবে জৈন্তার রাজবাড়ি, পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ছোট ছোট ঝর্ণা পরিবেষ্টিত তামাবিল, শ্রীপুর ও জফলং। খাসিয়া, মনিপুরি পাহাড়ি অনেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে।

শাহজালাল মাজার: সিলেট শহরে রয়েছে শাহজালাল মাজার। এক সময় হিন্দু রাজার অত্যাচারে সিলেটবাসী অতিষ্ট হয়েলিল। হিন্দু রাজার প্রতাপ এতই ছিল যে মুসলমান কেউ মুখ খুলতে পারতনা। সিলেটের মুসলমান বুরহান উদ্দিনের ছেলের কথা শুনে গৌরগোবিন্দ রাজা তাকে ঢেকে পাঠায় এবং তার শাস্তি হিসেবে তার ছেলেকে হত্যা করে। এরই পর শুধুর ইয়েমেন থেকে হযরত শাহজালালের আগমন ঘটে। তিনি নৌকা না পেয়ে জায়নামাজ বিছিয়ে সুরমা নদী পাড়ি দিয়েছিলেন। তার আজানের ধ্বনিতে গৌড় গোবিন্দের সাত তলা বিল্ডিং ধ্বংশ হয়ে গিয়েছিল। এ শহরের মধ্যেই রয়েছে হযরত শাহজালালের ভাগিনা হযরত শাহপরানের মাজারসহ সফর সঙ্গী ৩৬০ আওলিয়ার মধ্যে অনেকের মাজার। সিলেট শহরে ঢুকতেই সুরমা নদীর উপর বৃটিশ আমলে তৈরি অতিপ্রাচীন কিং ব্রীজ দেখতে পাবেন।

শাহী ঈদগা: এটি সিলেটের যুগ যুগের ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আজও আছে। ঈদগাটি এমনভাবে টিলার উপর তৈরী যা দেখে আপনিও মুগ্ধ হবেন।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় : বাংলাদেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট শহরের আখালিয়া বি.ডি.আর ক্যাম্পের কাছে বিশাল এলাকা নিয়ে অবস্থিত।

এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ: শতবর্ষের পুরাতন এই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটি সিলেট তথা ভারত, পাকিস্থান এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনের স্বাক্ষী। এর সুবিশাল ক্যাম্পাস টিলা আর সবুজে ভরপুর। এখানে যে কেউ আসলে মুগ্ধ হবে। একবার দেখলে বার বার দেখতে ইচ্ছে করবে।
ওসমানী শিশু পার্ক : শহরের ধুপাদিঘীর পারে রয়েছে আমাদের স্বাধীনতার অন্যতম ব্যক্তিত্ব এম.এ.জি ওমানীর নামানোসারে ওসমানী শিশু পার্ক। এটি সিলেটের কমলমতি শিশুদের আনন্দদানে এক উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে শিশুদের জন্য বেশ খেলার জিনিষ রয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের জন্যও রয়েছে দেখার মত বেশ ক’টি আর্কষণীয় জিনিষ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গেইম অব ডেঞ্জার। এটি দেখলে আপনি আশ্চর্য্য এবং ভয়ও পেতে পারেন, কারণ একটি ঘরের মতো উচু গুল চত্বরের মধ্যে হোন্ডা চালিয়ে হাত পা ছেড়ে একে বারে নিচ থেকে ১০ ফুট উপর পর্যন্ত একজন মানুষ কিভাবে এটি করে। এই গেইম খুবই রিস্কি। জানা যায় এই পার্কের পরিচালক সুইট এই গেইম বিদেশের মাঠিতে উপস্থাপন করে বেশ প্রশংসা কুড়িছিলেন।

আলী আমজাদের ঘড়ি: সিলেট শহরের সুরমা নদীর তীরে ১৩০ বছর ধরে টিকে আছে আলী আমজাদওে ঘড়ি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বয়ে চলেছে সুরমা। এ ঘড়িটি দুর্যোগ, ভূমিকম্প, বন্যা ভাঙ্গনসহ অনেক বিপর্যয়ের স্বাক্ষী। রোমান রীতিতে লেখা এ ঘড়িটির ১২ ঘন্টার অংক। ঘড়িটিকে কেন্দ্র করে ঘড়িঘর। ইউরোপীয় স্থাপত্যের আদলে টিন আর লোহার কাঠামো ঘিরে চারদিকে ছাউনী ছড়িয়ে দাড়িয়ে ঘড়ি ঘর। সিলেটের শ্যামল প্রকৃতির সাথে এক মমতায় জড়িয়ে রয়েছে। সিলেট শহরের একেবারে হৃৎপিন্ডে তা স্থাপিত। ১৮৭৪ সাল সিলেট তখন ভারতের আধ্যাতিক রাজধানী। ভাইসরয় লর্ড নর্থ ব্রæক সিলেটে আসা উপলক্ষে তৈরি করা হয় চাঁদনী ঘাটের সিড়ি এবং তাকে মুগ্ধ করার জন্য তৈরি করা হয় চমকপদ একটি ঘড়ি।

ন্যাচারাল পার্ক: ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাছেই রয়েছে ন্যাচারাল পার্ক। এটি সবুজ আর সবুজে ভরপুর।
গল্ফকাব: সিলেট চৌখিদেখীতে রয়েছে চতুর দিকে চা বাগানে ঘেরা এক মনোরম পরিবেশে এই গল্ফ ক্লাবটি।

মৌলভী বাজার জেলার শ্রীমঙ্গল: ঢাকা থেকে আসার পথে শ্রীমঙ্গলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে রয়েছে চা বাগান। পর্যটকমাত্রেই আপ্লুত হন শ্রীমঙ্গলের সবুজ চা বাগান আর সবুজ হাত ছানিতে। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র, লাওয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক, ক্লোরোফর্ম গাছ, রাবার বাগান, মাগুরছড়াসহ অসংখ্য খাসিয়া পল্লী এবং চা শ্রমিক ও মণিপুরি সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা অভিভূত হওয়ার মতোই। পিচঢালা রাস্তা ধরে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার চা বাগান বা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে হেটে রিক্সায় করে, বাইসাইকেলে চড়ে কিংবা জিপ অথবা মাইক্রোবাসে চড়ে বেড়ানোর মজা অনেককেই বারবার শ্রীমঙ্গলে টেনে আনে। শ্রীমঙ্গলের অদুরে কমলগঞ্জের বিভিন্ন পল্লীতে মণিপুরি সম্প্রদায় ঐতিহ্যবাহী তাঁত চালিয়ে রকমারি শাড়ি, চাদর, ওড়না, মাফলার ইত্যাদি তৈরি করেন। চা বাগানে মহিলা শ্রমিকদের চা পাতা তোলার দৃশ্যটি সত্যি মনোরম এবং অনেকটাই গর্বের বিষয়। খাসিয়া পল্লীগুলোতে পান চাষের মাধ্যমে জীবিকা চালানো মানুষদের কাঠের তৈরী টং ঘরগুলো দেখার আনন্দই আলাদা।

শ্যামলীঃ পিকনিকের জন্যে দ্বিতীয় সুন্দর স্থানটি শ্রীমঙ্গলের শ্যামলীতে অবস্থিত। শ্রীমঙ্গল থেকে তিন মাইল উত্তর-পূর্ব কোনে ভানুগাছ সড়কের কাছে সুন্দর পরিবেশে বিখ্যাত পিকনিক স্থানটি অবস্থিত। এর কাছে বনবিভাগের একটি নার্সারী, ঢাকবাংলো ও অফিস আছে। টিলার উপর মনোরম পরিবেশের এ স্থানটিতে ঘরোয়া পরিবেশে পরিবার পরিজন নিয়ে পিকনিক করা যায়। এর পাশেই খাসিয়া পুঞ্জি, তাদের জীবন প্রবাহ গাছ থেকে পান আহরন, টিলার উপর তাদের বাসস্থান এটি একটি আকর্ষণীয় বস্তু। এ পিকনিক স্থানটির কাছে দেশের একমাত্র বিরল প্রজাতির একটি দশ্য আছে। দেশের অগনিত বৃক্ষ প্রেমিক এ গাছটিকে দেখেছেন গবেষণা করেছেন। আফ্রিকা অঞ্চল থেকে আনিত এ গাছটি বাংলাদেশের একমাত্র গাছ। এ গাছের পাতা শুকলে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়। অনেকে গাছটিকে ক্লোরোফর্ম গাছ বলে অভিহিত করে থাকেন।

সীতেশ বাবুর প্রাণী জগৎ: শ্রীমঙ্গল শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডে রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। এটি সীতেশ বাবুর প্রাণী জগৎ নামে পরিচিত। কয়েক গজ পরিধির ভেতর বন্য প্রাণীর এক বিচিত্র মেলা। এটি ১৯৭১ সালে সীতেশ বাবু নিজের প্রচেষ্ঠায় করেন। এখানে বিভিন্ন জাতের অতিথি হাঁস, হিমালয়ান পাম সিভেট, অজগর, লজ্জাবতী বানর, বন্য খরগোশ, ময়না, সোনালী বাঘ, গন্ধগোকুল বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ, রাজ ঘুঘু, টিয়া, ভালুক, সজারু, মায়া হরিণ, ধনেশর, লাভ বার্ড ইত্যাদি রয়েছে।

মাধবপুর লেক: শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জ থানার মাদবপুর চা বাগানের কাছেই মাধবপুর লেক। মাদবপুর চা বাগানের কাছেই মাধবপুর লেক বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এখানে পিকনিক করতে হয়।

মাধবকুন্ড: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার মাধবকুন্ড বাংলাদেশের একমাত্র জল প্রপাত হিসিবে পরিচিত। সারা বছরই এখানে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যায়। সুউচ্চ পাহাড়ের উপর থেকে প্রচন্ড বেগে উপচে পড়া জলের দৃশ্য খুবই মনোরম। বড়বড় পাথরের উপর জল পড়ছে প্রচন্ড শব্দে। উচু পাহাড় থেকে জল পড়ার দৃশ্যটি যে কোন পর্যটকের মনে নাড়া দেবে। এই জল পড়ার দৃশ্যটি এতই সুন্দর যে, মনে হয় কোন প্রেমিকের কাছ থেকে তার প্রিয়া বিদায় নিয়ে মাথার চুল এলিয়ে দোলিয়ে চলে যাচ্ছে। জল প্রপাতের কুন্ডের পানি এতই পরিস্কার মনে হয় কোন প্রেমিক সুন্দর দাঁত বাহির করে হাশিমাখা কণ্ঠে তার প্রিয়াকে কাছে ঢাকছে। ইচ্ছে হয় এই পানিতে গাঁ ভাসিয়ে সাঁতার কেটে পানির সাথে মিতালী করি। যে টিলার ওপর থেকে পানি পড়ছে সেটি সম্পূর্ণ পাথর অর্থাৎ ২০০ ফুট উচু টিলাটি একটি অখন্ড কালো বর্ণের পাথরের টিলা। এছাড়াও নিচের ছড়ার মধ্যে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বড় ও মাঝারি আকারের পাথর। কুন্ডের ডান দিকের পাথরের টিলার গায়ে সৃষ্টি হয়েছে এক পাথরের ‘গুহা’। স্থানীয় ভাষায় এ গুহাকে ‘কাব’ বলা হয় । এটা দেখলে মনে হয় মানুষের তৈরি একচালা ঘর। অথচ এই ‘কাব’ প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি। এটি মাধবকুন্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে। এখানকার বিভিন্ন টিলার খাজে খাজে ও পাদদেশে খাসিয়া উপজাতিদের পানপুঞ্জি, মাধবকুন্ডের গহিন অরণ্যাঞ্চলের আশেপাশের ছোট ছোট টিলায় গড়ে উঠেছে পাথারিয়া চা বাগান। এ বাগানের শ্যামল শোভা, ছায়া বৃক্ষের শান্ত, স্নিগ্ধ ছায়ারাশির সৌন্দর্য মনকে প্রশান্তিতে বরে তোলে। এখানে দেশের একমাত্র ইকোপার্ক স্থাপনের কাজ চলছে। মাধবকুন্ড ধর্মীয় স্থান হিসেবেও খ্যাত। বহু লোক স্নানের জন্য এখানে আসে। মাধবকুন্ডকে আকর্ষনীয় করে গড়ে তোলার জন্য সরকার এখানে জেলা পরিষদের রেষ্ট হাউজ, পর্যটন রেস্টুরেন্ট, দুটি পিকনিক শেড, ক্লথ চেঞ্জিং শেড, গাড়ি পার্কিংপ্লেস স্থাপন করেছে।

কিভাবে যাবেনঃ সিলেট থেকে সড়ক পথে মাধবকুন্ড যেথে পারেন। সময় ২ থেকে ৩ ঘন্টা লাগবে। রাস্তাতে বিয়ানীবাজার জলডুপ কমলা বাগান দেখে যেতে পারেন। অথবা ঢাকা থেকে আসার পথে মৌলভীবাজার থেকে ও যেতে পারেন।

ড্রীমল্যান্ড পার্ক : সিলেট শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দুরে গােলাপগঞ্জ থানার হিলালপুর নামক স্থানে এই পার্ক বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম।

জাফলং: সিলেটে প্রকৃতির সৌন্দর্যের আরেক লিলাক্ষেত্র জাফলং। সীমান্ত এলাকা তামাবিলের অপরদিকে রয়েছে ভারতের শীলং রোড। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুরে তামাবিল সীমান্তে দেখতে পাবেন উচু উচু পাহাড় থেকে ঝর্ণা ধারা পাহাড় গুলোকে আরো অদ্ভুত সৌন্দর্যে সজ্জিত করেছে। তবে ঝর্ণা ধারাগুলো ভারতের অংশে পড়ায় দেশের সীমানায় অবস্থান করে এসব সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয়। তামাবিল থেকে জাফলংএর দুরত্ব ৭ কিলোমিটার। সিলেট শহর থেকে জাফলং যেতে হলে তামাবিল দিয়ে যেতে হয়, সেজন্য তামাবিল বেড়িয়ে জাফলং যাওয়া সুবিধাজনক। পাহাড়ের উচু নিচু পথ ধরে জাফলং পৌছে উপভোগ করুন এই অঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দরতম এলাকাকে। হিমালয়ের বুক চিড়ে জাফলং এ ছুটে এসেছে একটি নদী। মূলত এই নদীটি জাফলং এর সুন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। নদীর পরিস্কার স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটা এবং নৌকা চড়া এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অনুভ’তি। জাফলং এ পাহাড় থেকে নদীতে ভেসে আসছে লক্ষ লক্ষ পাথরের খন্ড। এই পাথর দেশের সর্বত্র নির্মাণ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। জাফলং এর নদী থেকে দেখা যায় ভারতের ডাউকি বন্দরের ঝুলন্ত সেতু। জাফলং এর আরেক আকর্ষণ হচ্ছে খাসিয়া পল্লী। নদীর পাশে এই খাসিয়া পল্লীর অবস্থান। খাসিয়াদের জীবনযাত্রা, বাড়িঘর, পোষাক সবই আমাদের থেকে আলাদা।

রাতারগুল: রাতারগুল সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। এখানে হিজলে ফল ধরে আছে শয়ে শয়ে। বটও চোখে পড়বে মাঝেমধ্যে। বড়ই অদ্ভুত এই জলের রাজ্য। কোনো গাছের হাঁটু পর্যন্ত ডুবে আছে পানিতে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলো আবার শরীরের অর্ধেকই ডুবিয়ে আছে জলে।

টাঙ্গুগুয়ার হাওর: টাঙ্গুগুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝরনা এসে মিশেছে এই হাওরে। দুই উপজেলার ১৮টি মৌজায় ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে টাঙ্গুগুার হাওর জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি।

পাথর বিছানো বিছনাকান্দি: সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার রস্তুমপুর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা বিছনাকান্দি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়৷ পাথর বিছানো বিস্তীর্ণ প্রান্তরের উপরে বয়ে চলা মেঘালয়ের পাহাড়ী ঝরনাধারা বিছনাকান্দির মূল আকর্ষণ৷

🌍আপনি কি সপরিবারে বা এককভাবে ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদন করতে চাচ্ছেন? দেশ থেকে বা দেশের বাইরে থেকেও অনলাইনে আবেদন করা এখন খুবই সহজ! আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ ভিসা প্রসেসিং অফিসারের মাধ্যমে আপনার ভিসা আবেদন অত্যন্ত যত্ন সহকারে প্রক্রিয়া করি।
🌍 UK, Australia, New Zealand, USA, Canada, and Schengen Visit Visa Processing
🌍 UAE, QATAR, SAUDI ARABIA, EGYPT, MOROCCO, IRAN, PAKISTAN, Uzbekistan, Singapore, Malaysia,
যোগাযোগ: Call/WhatsApp +88-01903-845418 Email:bdtour7@gmail.com