মজনুজ্জামান: জার্মান অপরচুনিটি কার্ড কি? এটি একটি ভিসা যার মাধ্যমে জার্মানিতে এসে কাজ খুঁজে স্থায়িভাবে বসবাস করতে পারবেন।এমনকি নাগরিকত্বও পাবেন। এ ক্যাটাগরিতে আপনি জার্মানিতে এক বছরের ভিসা নিয়ে আসতে পারবেন। এই এক বছরের মধ্যে আপনাকে একটি জব খুঁজে নিতে হবে।অপরচুনিটি কার্ডের বড় সুবিধা:আপনি যদি পারমানেন্ট কাজ নাও পান তাহলে সপ্তাহে ২০ঘন্টা পার্ট টাইম কাজের সুযোগ পাবেন।
আপনি কি জার্মান অপরচুনিটি কার্ড ভিসার জন্য যোগ্য?
আমি বলব বাংলাদেশের ৫০% লোক এই ভিসা পাওয়ার যোগ্য।আমরা জানি কানাডা অস্টালিয়াসহ বেশ কয়টি দেশে ভিসার ক্ষেত্রে মার্কিং করা হয়। সেইম জার্মানিও অপরচুনিটি কার্ড ভিসার ক্ষেত্রে মার্কিং করে থাকে। মোট ১৭ পয়েন্টের মধ্যে যারা ৬ পয়েন্ট পায় তাদেরকে এই ভিসা দিয়ে থাকে।
শুরু থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত কি করতে হবে চার ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আপনি নিজে নিজে জার্মাান ভিসা করতে পারবেন। এর পরও যদি আমাদের কোন সহযোগীতা প্রয়োজন হয়।তাহলে স্ক্রীনে দেওয়া নাম্বারে মেসেজ করতে পারেন।আমরা আপনাদের সাথে যোগাযোগ করব।
জার্মান অপরচুনিটি কার্ড ভিসা পাওয়ার জন্য কি কি লাগবে
প্রথম ধাপ: ৬পয়েন্ট অর্জন করতে হবে
দ্বিতীয় ধাপ: ব্লক একাউন্টে টাকা জমা:
তৃতীয় ধাপ: এ্যাম্বাসী এ্যাপয়েন্টমেন্ট
চতুর্থ ধাপ: ডেট মত সকল ডকুমেন্টস এম্বাসীতে জমা করা:
প্রথম ধাপ: ৬পয়েন্ট অর্জন করা:এই ৬পয়েন্ট কিভাবে অর্জন করবেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য রয়েছে ৬পয়েন্ট, কাজের অভিজ্ঞতার জন্য রয়েছে ৩পয়েন্ট, বয়সের জন্য রয়েছে ২পয়েন্ট, ভাষাশিক্ষার জন্য রয়েছে ৪পয়েন্ট, পূর্বে জার্মানিতে বসবাসের জন্য রয়েছে ১পয়েন্ট, স্বামী/স্ত্রীর যোগ্যতার জন্য রয়েছে ১পয়েন্ট, বিশেষ যোগ্যতার জন্য রয়েছে ১পয়েন্ট। তাহলে এখান থেকেই আপনি যোগ্য কি-না যাচাই করে নিতে পারেন।
১.শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ৬পয়েন্ট
স্নাতক ডিগ্রির জন্য রয়েছে ৬পয়েন্ট
দুই বছরের ভোকেশনাল ডিগ্রির জন্য রয়েছে ৪পয়েন্ট
২.কাজের অভিজ্ঞতার জন্য সর্বোচ্চ রয়েছে ৩ পয়েন্ট
৫ থেকে ৭ বছরের অভিজ্ঞতার জন্য রয়েছে ৩পয়েন্ট
২ থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতার জন্য রয়েছে ২পয়েন্ট
৩.বয়সের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ২ পয়েন্ট
১৮ থেকে ৩৪ বছর পর্যন্ত ২পয়েন্ট রয়েছে
৩৫ থেকে ৩৯বছর পর্যন্ত ১পয়েন্ট রয়েছে
৪.ভাষাগত দক্ষতার জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ৩ পয়েন্ট
ইংরেজি সি১ বাসমমান =১পয়েন্ট
জার্মান বি২ = ৩পয়েন্ট
জার্মান বি১ = ২পয়েন্ট
জার্মানএ২ = ১পয়েন্ট
৫.বিশেষ যোগ্যতার জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১পয়েন্ট
তথ্য-প্রযুক্তি খাত
ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার
স্বাস্থ্য খাত
শিক্ষকতা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাত
প্রডাকশন / ব্যবস্থাপনা
৬.পার্টনারের যোগ্যতার জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১পয়েন্ট
স্বামী/স্ত্রী অপরচুনিটি কার্ডের জন্য এপ্লাই করার যোগ্য হলে মেইন আবেদনকারী পাবেন ১পয়েন্ট
আমি মনে করি এই ৬ পয়েন্ট পাওয়া কোন ব্যাপারইনা।
দ্বিতীয় ধাপ: ব্লক একাউন্টে টাকা জমা:
এক বছরের খরচ বাবত ১২হাজার ৩২৪ ইউরো রাখতে হবে। এ থেকে প্রতি মাসে খরচের জন্য ১হাজার ২৭ ইউরো পাবেন।আর যদি ভিসা রিফিউজ হন তাহলে এই টাকা ফেরৎপাবেন। বলতে পারেন এই টাকার গ্যারান্টি কি। আমরা যারা স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করি তাদেরকে টিউশন ফি দিতে হয়। আর যদি ভিসা না হয় তখন টিউশনফি ফেরৎ দিয়ে থাকে। সেইম একই প্রসেসে এই টাকা ফেরৎ পাবেন।
তৃতীয় ধাপ: এম্বাসী এ্যাপয়েন্টমেন্ট
চতুর্থ ধাপ: ডেট মত সকল ডকুমেন্টস এম্বাসীতে জমা করা।
১.মুল পাসপোর্র্ট
২.পাসপোর্টে প্রথম দুই পাতা
৩. দুই কপি এপ্লিকেশন ফর্ম ৪. দুই কপি ছবি (৩৫/৪৫)
৫.কভার লেটার
৬. ইউরোপিয়ান সিভি
৭. ভাষাগত দক্ষতার সার্টিফিকেট
৮. ব্লক একাউন্টে টাকা রাখার প্রমানপত্র
৯. হেল্থ ইন্সুরেন্স
১০. ভিসা ফি (৭৫ ইউরো)
Recent Comments