গ্লোবাল ট্যুর: সোরওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। পূর্বে এটি রমনা রেস কোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল। বৃটিশ শাসনামলে ১৮৩৬ সালে এই উদ্যান ঘোড়া দৌড় খেলার জন্য তৈরী করা হয়। এখানে দৌড়ে অংশ গ্রহনের জন্য অনেক সময় বৃটেন থেকে ঘোড়া আমদানি করা হতো। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্থান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগ্রামের জন্য বাঙ্গালী জাতির নিকট আহবান জানান। ৭ই মার্চের ভাষণ এখানেই প্রদান করেন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এই স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী আতœসমর্পণ করে। এই স্থানটিকে আরও স্বরণীয় করে রাখার জন্য এখানে শিখা অর্ণিবান প্রজ্জলন করা হয়েছে।
উদ্যানের পূর্বে সুপ্রীম কোর্ট ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট ও রমনা পার্ক। পশ্চিমে বাংলা একাডেমী, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, চারুকলা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, পাবলিক লাইব্রেরী এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। উত্তরে বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা ক্লাব ও টেনিস কমপ্লেক্স। দক্ষিণে পুরানো হাইকোর্ট ভবন, তিন জাতীয় নেতা শেরে-বাংলা এ.কে ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দিন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সমাধি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত যেসব ঐতিহাসিক ঘটনা অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলিকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে এখানে ‘শিখা চিরন্তন’ স্থাপন করা হয়েছে। তার পাশেই যেখানে পাকিস্তনি সেনাগণ আনুষ্ঠানিকভাবে যেখানে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিল সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে স্বাধীনতা টাওয়ার।
এখানে রয়েছে স্বাধীনতা স্তম্ভ। এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জনতার দেয়াল নামে ২৭৩ ফুট দীর্ঘ একটি ম্যুরাল বা দেয়ালচিত্র। এটি ইতিহাসভিত্তিক টেরাকোটার পৃথিবীর দীর্ঘতম ম্যুরাল। এর বিষয়বস্তু ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস। এ ছাড়া উদ্যানে খনন করা হয়েছে একটি কৃত্রিম জলাশয় বা লেক। ২০০১ সালে উদ্যানের ভেতর ঢাকা জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা সংবলিত একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়।
কিভাবে যাবেন: দেশ থেকে সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশপথে এবং বিদেশ থেকে আকাশপথে ঢাকায় যাওয়া যাবে। ঢাকা শাহজালাল বিমান বন্দর, কমলাপুর রেলষ্টেশন, সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল অথবা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রাইভেট ট্যক্সি করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়া যাবে। ঢাকার গুলিস্তান, কাকরাইল, পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, মগবাজার, হাইকোর্ট ও ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের যেকোন স্থান হতে সিএনজি ও রিকশাযোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়া যাবে।
Visit Our Social Site: Group: https://www.facebook.com/groups/globaltourb Page: https://www.facebook.com/globaltourb
Recent Comments