গ্লোবাল ট্যুর: বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর বাংলাদেশের রাজধানীঢাকা নগরীর কেন্দ্রস্থলে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমনের স্মৃতি বিজড়িত আবাসিক বাড়িটি বর্তমানে জাদুঘরে রুপান্তরিত করা হয়েছে। ১৯৬১ সালের অক্টোবর থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের এই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ১৯৬২ সালের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফার আন্দোলন, ১৯৭০ সালের সাধারন নির্বাচন, ১৯৭১ এর শুরুতে অসহযোগ আন্দোলন, এই সবগুলো ক্ষেত্রেই শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা প্রনয়ন, দলের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা শোনা এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৩২ নম্বরের এই বাড়িটি। দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরা এই বাড়িতে ভিড় করেছেন ৭১ এর উত্তাল দিনগুলোতে।
স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি তখনও তিনি এই বাড়িটি থেকে রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম পরিচালনা করেন।১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ট এই বাড়িতেই তিনি স্বপরিবারে নিহত হন।
১৯৮১ শেখ হাসিনা বাড়িটিকে জাদুঘরে রপান্তরের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট বাড়িটিকে জাদুঘরে রুপান্তরিত করে। নাম দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘর ভবনটিতে ঢুকে এক তলাতেই চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। একতলায় জাদুঘরটির প্রথম কক্ষে ছবির মাধ্যমে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে বঙ্গবন্ধুর আলাপচারিতা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের আলোকচিত্র রয়েছে এখানে। এই কক্ষটি ছিল ড্রইং রুম। যেখানে বসে বঙ্গবন্ধু দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে বৈঠক করেছেন। এই কক্ষের পাশের কক্ষটি ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের পড়ার ঘর। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার সময় এখনো চোখে পড়বে ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট রাতের তান্ডবলীলার নিদর্শন। এছাড়া এখানে শিল্পীর তুলিতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর গুলিবিদ্ধ অবস্থার একটি প্রতিকৃতি।
দোতলায় প্রথম যে কক্ষটি পাওয়া যায় সেটি ছিল বঙ্গবন্ধুর বাসকক্ষ। এর পরের কক্ষটি ছিল তাঁর শোবার ঘর, তারপরের কক্ষটি শেখ রেহানার শোবার ঘর। এ কক্ষগুলোয় এখন প্রদর্শিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারবর্গের নানা স্মৃতি চিহ্ন।
বিভিন্ন প্রদর্শন সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে শেখ রাসেলের খেলার জিনিস। যেমন- বল, হিকষ্টিক, ব্যাট, হেলমেট, সুলতানা কামালের সঙ্গে তার ছবি ইত্যাদি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ব্যবহৃত পাইপ, চশমাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র রয়েছে।
প্রবেশ ফি:এই জাদুঘরটির একটি মাত্র টিকেট কাউন্টার রয়েছে। ভিড় থাকলে লাইন ধরে টিকেট কাটতে হয়। টিকেটের মূল্য ৫ টাকা। ৩ বছরের কম বয়সীদের কোন টিকেটের প্রয়োজন হয় না। আর শুধুমাত্র শুক্রবার ১২ বছরের কম বয়সীরা টিকেট ছাড়া প্রবেশের সুযোগ পায়।
সময়সূচী:বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর খোলা থাকে।এটিতে সাধারণত শুক্রবার ও শনিবার ভিড় বেশি হয়।বুধবার সাপ্তাহিক ছুটি ।
কিভাবে যাবেন: দেশ থেকে সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশপথে এবং বিদেশ থেকে আকাশপথে ঢাকায় যাওয়া যাবে। ঢাকা শাহজালাল বিমান বন্দর, কমলাপুর রেলষ্টেশন, সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল অথবা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রাইভেট ট্যক্সি করে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়া যাবে। ঢাকার ফার্মগেট, নিউমার্কেট, গ্রীনরোড, কলাবাগান,ধানমন্ডির যেকোন স্থান হতে রিকশাযোগে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়া যাবে।
Visit Our Social Site: Group: https://www.facebook.com/groups/globaltourb Page: https://www.facebook.com/globaltourb
Recent Comments