গ্লোবাল ট্যুর: লালবাগ কেল্লায় যা দেখবেন: ১.লালবাগ কেল্লা জাদুঘর: শায়েস্তা খাঁর বাসভবন ও দরবার হল বর্তমানে লালবাগ কেল্লা জাদুঘর হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। প্রতিদিন অনেক দেশি বিদেশি পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। ২.পরীবিবির সমাধি: লালবাগ কেল্লার স্থাপনার মধ্যে অন্যতম এটি। এখানে পরীবিবিকে কবর দেওয়া হয়। শায়েস্তা খান তার কন্যার স্মরণে এই মনমুগ্ধকর মাজারটি নির্মণ করেন। লালবাগ কেল্লার তিনটি বিশাল দরজার মধ্যে বর্তমানে জনসাধারনের জন্যে উন্মুক্ত একটি দরজা। এই দরজা দিয়ে ঢুকলে বরাবর সোজা পরীবিবির সমাধি। দামি মার্বেল ও কষ্টি পাথর এবং বিভিন্ন রং এর ফুল পাতা সুশোভিত চাকচিক্যময় টালির সাহায্যে অভ্যন্তরীণ নয়টি কক্ষ অলংকৃত করা হয়েছিল। মাঝের একটি ঘরে পরি বিবির সমাধিস্থল। এর ছাদে কষ্টিক পাথওে তৈরি চারকোনে চারটি মিনার ও মাঝে একটি গম্বুজ আছে। সমাধিতে যে গম্বুজটি আছে তা এক সময় স্বর্ণখোচিত ছিল। পরীবিবি ছিলেন মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁয়ের কন্যা। মুঘল স¤্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজমের সাথে ১৬৬৮ সালে পরিবিবির বিয়ে হয়। ১৬৮৪ সালে পরিবিবি মৃত্যুবরন করেন।৩.লালবাগ কেল্লার ‘মানুষ খেকো’ রহস্যময় সুড়ঙ্গ পথ:ঢাকার লালবাগ কেল্লা ইতিহাসের একটি অনন্য নিদর্শন। লালবাগ কেল্লা উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহাসিক দুর্গগুলোর একটি। এটি বাংলাদেশে মুঘল স্থাপত্যকলার অন্যতম বড় এক নিদর্শনও।নানা রকম রহস্যে ঘেরা এই লালবাগ কেল্লার সব থেকে রহস্যময় স্থান হচ্ছে লালবাগের বন্ধ সুড়ঙ্গ পথ। যা সবার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সুড়ঙ্গ নিয়ে বছরের পর বছর নানারকম কল্পকাহিনী শোনা যায়। লালবাগ কেল্লার নিচে রয়েছে অসংখ্য সুড়ঙ্গ পথ যা জমিদার আমলে তৈরি করা হয়েছিল। লোকমুখে শোনা যায় সুড়ঙ্গ পথগুলোর মধ্যে একটি সুড়ঙ্গ পথ আছে যার ভেতরে কেউ ঢুকলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না! তবে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।রহস্যগেরা এ সুরঙ্গ পথটি নিয়েও নানা জনের নানা কথা-কেউ মনে করে এটি প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে টঙ্গী নদীর সঙ্গে যুক্ত। আবার কেউ মনে করে, এটি একটি জলাধারের মুখ। মুঘলদের পতনের পর লালবাগ দুর্গ যখন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, তখন ঢাকাবাসীর সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই সুড়ঙ্গ পথ। পর্যটকরা বেড়াতে গেলে এই সুড়ঙ্গের গল্প অনেকেই শুনেন। বলা হয়, এখান দিয়ে নাকি সুরঙ্গ পথে দিল্লি পর্যন্ত যাওয়া যেত। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। এটি যুদ্ধকালীন বা বিপদ মুহূর্তে সুবেদারদের নির্বিঘেœ পালিয়ে যাবার পথ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। ভারতের সব দুর্গেই এরকম সুড়ঙ্গের ব্যবহার দেখা যায়।
৪.তিন গম্বুজওয়ালা দুর্গ মসজিদ: স¤্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা আজম বাংলার সুবেদার থাকাকালীন ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানেও মসজিদটি মুসল্লিদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
৫.পানির ট্যাংক: একটি বর্গাকৃতির পানির ট্যাংক দেওয়ান-ই-আমের পূর্বদিকে স্থাপন করা হয়। ট্যাংকে নামার জন্য চার কোনার সিঁড়ি আছে।
কিভাবে যাবেন: দেশ থেকে সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশপথে এবং বিদেশের থেকে আকাশপথে ঢাকায় যাওয়া যায়। ঢাকা শাহজালাল বিমান বন্দর, কমলাপুর রেলষ্টেশন, সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল অথবা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে প্রাইভেট ট্যক্সি করে লালবাগ কেল্লায় যাওয়া যাবে। ঢাকার গুলিস্তান, শাহবাগ বা কার্জন হলের সামনে হতে রিকশা ও সিএনজিযোগে লালবাগ কেল্লায় যাওয়া যাবে।
প্রবেশ ফি : বাংলাদেশী দর্শক ১০ টাকা জনপ্রতি। অন্যান্য দেশের দর্শক ১০০ টাকা জনপ্রতি।
সময়সূচী :গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা ২.০০ থেকে লালবাগ কেল্লা খোলা থাকে।
Visit Our Social Site: Group: https://www.facebook.com/groups/globaltourb Page: https://www.facebook.com/globaltourb