গ্লোবাল ট্যুর: বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অংশে বৃহত্তর খুলনায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের রাজধানী হিসেবে খ্যাত ভয়ংকর এক অরন্য সুন্দরবন। ধারণা করা হয় সুন্দরবনের প্রধান আকর্ষণ সুন্দরী গাছ থেকেই পৃথিবীর বৃহত্তম এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন। সীমাহীন এ বনের অন্য সব গাছের মাথা থেকে সগর্বে মাথা তুলে দাড়িয়ে আছে লাখ লাখ সুন্দরী বৃক্ষ। বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলজুড়েবিস্তীর্ণ সুন্দরবন। সুন্দরবনের পূর্ব সীমায় বলেশ্বর নদী আর পশ্চিম সীমায় রায়মঙ্গল ও হরিনঘাটা নদী। পশ্চিমের দুই নদী মোহনার সমুদ্র থেকে উজানে কয়েক মাইল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের সীমান্ত রচনা করেছে। এই নদীরই মোহনায় জেগে উঠেছে তালপট্টি দ্বীপ। বৃহত্তর খুলনা জেলার দক্ষিনের হালকা বসতিপূর্ণ লোকালয়ের পরে যে রেখা থেকে বন শুরু হয়েছে তার পর থেকে সুদূর সমুদ্র উপকুল পর্যন্ত কেবল বন আর বন। বিশাল সব নদী আর অসংখ্য ছোট বড় খালের রুপালী জলরাশি সুন্দরবন ধুইয়ে দিয়ে গড়িয়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরে। নদীর চরে দেখা যায় বানরের দল খেলা করছে। কাছাকাছি গেলে তারা ছুটে পালায়। কখনও জঙ্গল থেকে বেরিয়ে খোলা চরে বোকার মতো দাড়িয়ে থাকে চোখ ধাঁধাঁনো আশ্চর্য সুন্দর চিত্রল হরিণের দল। খুব কাছাকাছি গেলেও তারা অদৃশ্য হয় না সহজে। সমগ্র সুন্দরবনের উপরাংশের মাটি কর্দমাক্ত। নৌকা থেকে নামলে কোথাও নদী বা খালের কিনারায় প্রায় হাটু পর্যন্ত গেড়ে যায়। বনের ভিতরে অনেক দূর পর্যন্ত এ রকম কাঁদা দেখা যায়। মাটির নিচে কোথাও কোন শিলার চিহ্ন নেই। পনেরো বিশ ফুট পর্যন্ত শুধু কাঁদা তারপর বালির স্তর। রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী হিসেবে সুন্দরবনের ভিতরে দালান কোঠার ধ্বংসাবশেষ, দীঘি-পুকুর ইত্যাদি চিহ্নিত পাওয়া যায়। আরও কিছু মন্দির মঠ পাওয়া যায়, যেগুলোএখন জনমানবহীন গহীন বন। সুন্দরবনের জলরাশির সবচেয়ে দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য হলো জোয়ার ভাটা। প্রতি ২৪ ঘন্টায় দু’বার করে জোয়ার ভাটা হয়। এই জোয়ারের সময় গোটা সুন্দরবনের ভূমি এক থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারনে কেবল সেইসব প্রজাতির গাছই এখানে জন্মায়, যেগুলো লবনাক্ততা এবং জোয়ার জলমগ্নতার মাঝে টিকে থাকতে পারে। আর একারনেই সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট বলা হয়। সমগ্র বন ভূমির মধ্যে সুন্দরবন দেশের একক বৃহত্তম সংরক্ষিত বন। পৃবিথীর বৃহত্তম সমুদ্র উপকূলবর্তী এই বন ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট। বিশ্বের আর কোথাও এমন একটানা ম্যানগ্রোভ বন নেই। ম্যানগ্রোভ বনের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই বনে। যেমন: লোনা অঞ্চলের জোয়ার ভাটা বিধৌত এই বন সুন্দরবনে ঢুকতে গেলে বন অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তি বা নৌযানের বনে প্রবেশ নিষিদ্ধ। এর ব্যতিক্রম হলে তা অবৈধ অনুপ্রবেশ হবে। প্রতিদিন হাজার হাজার ভাসমান মানুষ বনে কাজ করে। তারা সবাই এবং দেশিবিদেশী পর্যটক যারা বন দেখতে যান তাদের প্রত্যেককে পাস নিয়ে বনে ঢুকতে হয়। বনে ঢোকার দুটি পথ রয়েছে। একটি মংলা বন্দর থেকে শেওলা নদী ধরে চাঁপাই হয়ে, অন্যটি শরণখোলা হয়ে যেতে হয়। সাতক্ষীরা হয়েও যাওয়া যায় বনে। সুন্দরবন সমুদ্র তীরবর্তীহওয়ায় এবং অসংখ্য নদী খাল বিধৌত বলে এই বনের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। সুন্দরবনের খাল-নদীর পানি এতই লোনা যে মানুষের পানের অযোগ্য। অন্তহীন এই সুন্দরবনে প্রকৃতি যেন তার অঢেল শোভা ঢেলে দিয়েছে। বিশাল এই বনভ’মির আনাচে কানাচে, ডাল আর পাতায় পাতায় যেনভয় লুকিয়ে রয়েছে। এই বনের গাছপালা যেমন সুন্দর, তেমনি জীবজন্তুও আশ্চর্য সুন্দর। সুন্দরবনের সবচেয়ে সুন্দর ও ভয়ংকর যে জন্তুটি রয়েছে তার নাম রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সারা বিশ্বে আমাদের জাতীয় প্রতীক এই বনের ডোরাকাটা বাঘ, যেমন তার চেহারা, তেমনি তার বিশালত্ব। তাই ইংরেজরা এই বাঘের নাম দিয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনে যে হরিণের বাস তার নাম স্বর্ণমৃগ বা সোনার হরিণ। সারাগায়ে ফোঁটা ফোঁটা বলে একে ফোঁটা হরিণও বলে। আবার চিত্রল হরিণ কিংবা চিতল হরিণও বলা হয়ে থাকে। এই হরিণ অত্যন্ত ভীরু এবং দ্রæতগামী। সারা বিশ্বে সবচেয়ে সুন্দর বলে স্বীকৃত এই হরিণ ছাড়াও নানাজাতের পাখি আছে সুন্দরবনে। কোনটা গাছের পাখি, আবার কোনটা পানির পাখি। এ ছাড়াও সাপ, বানর, কুমিরসহ হাজারোপ্রজাতির জীবজন্তু ও পাখি রয়েছে এই বনে। সম্পদে ভরা এই বনে যারা কাঠ, গোলপাতা বা লাকডড়ি কাটে তাদেরকে বলা হয় বাওয়ালী। এখানকার কাঠ দিয়ে তৈরি নিউজপ্রিন্টে লাখ লাখ খবরের কাগজ মুদ্রিত হয়। এখানে সুন্দরী, গেওয়া, কেউড়া, বাইন, গোলপাতা, সিংড়া ইত্যাদি উদ্ভিদ রয়েছে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ, শুকর, বানর, গুইশাপ, অজগর, কুমির, নানান প্রজাতির সাপ ও পাখি রয়েছে। ১৯৯৭ সালে দি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে। পৃবিথীর ৫২২টি বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে সুন্দরবন একটি। এর আয়তন ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার।

সুন্দরবনের বিখ্যাত স্পট :হিরোন পয়েন্টঃ বাঘ, হরিণ, বানর, কুমির, পাখি এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।কাতকাঃ হরিণ, বাঘ, কুমির, পাখি, বানর সকালে ও সন্ধ্যায় পাখির ডাক ইত্যাদির জন্য বিখ্যাত। দুলবার চরঃ এটি আকর্ষনীয় দ্বীপ। সুন্দরবনের জেলেদের বাস এখানে। এখানের ঘাসে প্রায়ই হরিণদের বিচরণ করতে দেখা যায়।

অনুমতিঃ সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য অবশ্যই আবেদন করে অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে। অনুমতি সংগ্রহ করতে হবে ডিভিশনাল ফরেষ্ট অফিস, সার্কিট হাউস রোড, খুলনা। ফোনঃ২০৬৬৫/২১১৭৩ এই ঠিকানা থেকে। ভ্রমণের সময় ঃ নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বেড়ানোর উপযোক্ত সময়।

কিভাবে যাবেনঃ খুলনা অথবা মংলা বন্দর থেকে নৌ পথে যেতে হবে সুন্দরবন। মংলা থেকে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের লঞ্চে অথবা বেসরকারী লঞ্চ, স্পীডবোটে চড়ে সুন্দরবন যেতে পারেন। মংলা থেকে সুন্দরবন পৌছাতে সময় ¯্রােতের উপর নির্ভর করে। তবে ৬ থেকে ১০ ঘন্টার মধ্যে পৗছানো যায়। ঢাকা থেকে খুলনা সড়ক পথে অথবা নৌ পতে পৌছাতে পারেন। সড়ক পথে দিবা রাত্রি কোচ সার্ভিস রয়েছে। নৌ পথে রকেট স্টীমারে পৌছাতে পারেন খুলনা। এছাড়াও বিমানে ঢাকা থেকে যশোহর পৌছে সড়ক পথে দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে খুলনা যেতে পারেন। সড়ক পথ থেকে নৌ পথে খুলনা যাওয়া আনন্দদায়ক। কারণ এতে গ্রাম বাংলার অনেক সুন্দর দৃশ্য আপনার চোখে পড়বে। ষ্টীমারে খুলনা পৌছাতে সময় লাগে কম পক্ষে ২৪ ঘন্টা এবং মংলা পৌছাতে সময় লাগে ২২ ঘন্টা।

কোথায় থাকবেন: হিরোন পয়েন্ট এবং কাতকায় পর্যটন কর্পোরেশনের রেষ্ট হাউস রয়েছে। অবশ্যই অগ্রিম বুকিং করতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য স্থানে অবস্থিত পর্যটন অফিসে যোগাযোগ করে রেষ্ট হাউসে বুকিং এর ব্যবস্থা করতে পারেন।

🌍 UK, Australia, New Zealand, USA, Canada, and Schengen Visit Visa Processing
🌍আপনি কি সপরিবারে বা এককভাবে ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদন করতে চাচ্ছেন? দেশ থেকে বা দেশের বাইরে থেকেও অনলাইনে আবেদন করা এখন খুবই সহজ! আমরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ ভিসা প্রসেসিং অফিসারের মাধ্যমে আপনার ভিসা আবেদন অত্যন্ত যত্ন সহকারে প্রক্রিয়া করি।
যোগাযোগ: Call/WhatsApp +88-01903-845418 Email:bdtour7@gmail.com